FANDOM


জেল পালানোর কাহিনী নিয়ে কম সিনেমা হয় নি। আমিও বেশ কয়েকটি দেখেছি। প্রথমে দেখেছিলাম “দ্য শশ্যাংক রিডেম্পশন“। এই সিনেমাটা প্রথম বার দেখেই খুব ভাল লেগেছিল, তবে এটা সত্যি যে সে সময় এর মাহাত্ম্য খুব একটা বুঝতে পারি নি। আবার দেখার পর বেশি ভাল লেগেছে। জেল পালানো নিয়ে করা সিনেমার কথা বললে এটাই তাই এক নম্বরে চলে আসে যদিও এখানে জেল পালানোর থ্রিল মুখ্য না। এখন যা বুঝতে পারছি, জেল পালানো নিয়ে করা কোন ভাল সিনেমাতেই থ্রিলটা মুখ্য থাকে না। মানুষ হিসেবে স্বাধীন জীবন যাপনের জন্য আমাদের প্রত্যেকের যে তাড়না সেটা চিত্রায়িত করাটাই মুখ্য হয়ে উঠে। পরে দেখা আরও কয়েকটি সিনেমায় এটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। তাছাড়া ফ্রাংক ড্যারাবন্ট এর সাথে পরিচয় হয়ে যাওয়ার পর রিডেম্পশনের মাহাত্ম্য বুঝতে বেশি দেরি হয় নি।

শশ্যাংক রিডেম্পশন এর পরেই আসে “প্যাপিলন” এর কথা। ফ্রাংকলিন জে শ্যাফনার পরিচালিত এই সিনেমাটাও অনেক আগে দেখেছিলাম। মানুষের কারাগার ভেঙে স্বাধীন হওয়ার তাড়না নিয়ে যত সিনেমা হয় তার সবগুলোই খুব স্লো হয়। প্যাপিলন বেশি স্লো, অথচ প্রায় আড়াই ঘণ্টার সিনেমা। যারা স্লো জিনিস খেতে পারে না তাদের এ সিনেমা ভাল লাগার কথা না। কিন্তু থিমের প্রয়োজনে সিনেমা যত স্লো-ই করা হোক না কেন আমার দেখতে কোন অসুবিধা হয় না। তাই প্যাপিলন দেখতে কোনই অসুবিধা হয় নি। কিছু দিক দিয়ে এই সিনেমার মানবিক আবেদন শশ্যাংক রিডেম্পশন কেও ছাড়িয়ে গেছে। কারণ প্যাপিলন এ অনেকবার অ্যাটেম্পট নেয়া হয়েছে যার অধিকাংশই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে গেছে।

এস্কেইপ ফ্রম অ্যালকাট্র্যাজ দেখেছিলাম ক্লিন্ট ইস্টউড এর যুগে। ইস্টউড এর যুগ বলতে আমি বুঝাচ্ছি সে সময়টাকে যখন ইস্টউড এর সব সিনেমা দেখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলাম। ওয়েস্টার্ন কিছু ভাল লেগেছে, কিছু খারাপ লেগেছে কিন্তু সার্বিকভাবে এই সিনেমাটা বেশ মর্মস্পর্শী। শেষ দৃশ্যটা এখনও ভুলতে পারি নি। সত্য কাহিনী থেকে করায় আবেদনটা হয়ত আরও বেশি ছিল। কারণ কাল্পনিক কাহিনী দিয়ে এতটা স্পর্শ করে যাওয়ার ক্ষমতা বোধহয় ডন সিজেল এর ছিল না। সিজেল তো মূলত ডার্টি হ্যারি আর কিছু ওয়েস্টার্ন এর জন্য বিখ্যাত। ডন সিজেল, সের্জিও লেওনে আর ক্লিন্ট ইস্টউড মিলে যে ট্রায়ো তৈরি করেছিল মার্কিন ওয়েস্টার্ন জগতে তা কিংবদন্তী হয়ে থাকবে।

জেল পালানোর কাহিনী নিয়ে পরে “প্রিজন ব্রেক” সিরিয়ালটাও দেখেছিলাম। সিনেমা দেখা আর টিভি সিরিজ দেখা একেবারে আলাদা বিষয়। টিভি সিরিজ দেখি সাময়িক আনন্দ, বেদনা বা থ্রিল এর জন্য। প্রিজন ব্রেক সেই সাময়িক থ্রিল বেশ ভালই যুগিয়েছিল। প্রথম দুই সিজন খুব আগ্রহ নিয়ে দেখেছিলাম। থার্ড সিজন থেকে আর দেখার কোন অর্থ পাইনি। প্রিজন ব্রেক এর কাহিনী নিয়ে নাকি স্পিলবার্গের একটা টিভি মিনিসিরিজ করার কথা ছিল, আমার মনে হচ্ছে সেটা করলেই ভাল হতো। কারণ সেক্ষেত্রে এই সিরিজের রেশটা জীবন চলার পথে অনেকদূর বয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। স্পিলবার্গ অবশ্য ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস করার জন্য এটা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভাল করেননি, তার ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস আমার একেবারেই ভাল লাগেনি।

প্রিজন ব্রেক অনেক কিছুই এস্কেইপ ফ্রম অ্যালকাট্র্যাজ থেকে নকল করেছে। যেমন একটি দৃশ্যে ইস্টউড একটি ডামি বানিয়ে ভেতরে যায় পালানোর পথ খুঁজতে। গার্ড এসে দেখে ইস্টউডের বিছানায় ডামিটা শুয়ে আছে, বুঝতে পারে না। এখানকার টেনশনটা প্রিজন ব্রেক এও ধরা পড়েছে। যাহোক এস্কেইপ ফ্রম অ্যালকাট্র্যাজ নিয়ে বাংলা উইকিপিডিয়াতে লিখেছিলাম। সেটুকুই এখানে ব্লগে এনে রাখছি…

এস্কেইপ ফ্রম অ্যালকাট্র্যাজ (Escape from Alcatraz) ডন সিজেল পরিচালিত কোল্ড অ্যাট্‌মসফেয়ারিক থ্রিলার। সত্য কাহিনীর উপর ভিত্তি করে নির্মীত এই ছবিটি ১৯৭৯ সালে মুক্তি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকো শহরের নিকটবর্তী অ্যালকাট্র্যাজ দ্বীপের জেলখানা থেকে তিনজন কয়েদীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা অবলম্বনে এর কাহিনী রচিত হয়েছে। পালানোর প্রধান পরিকল্পনাকারী কয়েদী ফ্র্যাংক মরিস-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্লিন্ট ইস্টউড।

কাহিনী সূত্রEdit

সিনেমাটি তৈরী করা হয়েছে এস্কেইপ ফ্রম অ্যালকাট্র্যাজ নামক নন-ফিকশন বই থেকে। জে ক্যাম্পবেল ব্রুস রচিত এই বইটি ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। অ্যালকাট্র্যাজ কারাগেরের ইতিহাস এবং সেখান থেকে পালানোর সফল ও ব্যর্থ প্রচেষ্টাগুলোই ছিল বইয়ের বিষয়বস্তু। বইয়ের একটি অংশে ফ্র্যাংক মরিস অন্য দুইজন কয়েদীর পালানোর বর্ণনা আছে। এই অংশটুকু থেকেই সিনেমা করা হয়েছে। উল্লেখ্য এর আগে অ্যালকাট্র্যাজ থেকে কেউ পালাতে পারেনি, এর পরেও পারেনি। অ্যামেরিকার অন্যতম কুখ্যাত আসামীদের এখানে পাঠানো হতো। এখানে সবাইকে ব্যক্তিগত সেল দেয়া হতো এবং কঠোর তদারকিতে রাখা হতো। পালানো ছিল খুবই কষ্টকর। মরিস ও অন্য দুজন পালানোর পরপরই অ্যালকাট্র্যাজকে চিরতরে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। জেলখানার কঠিন জীবন এবং বন্ধ হয়ে যাবার আগে এই কারাগারের অবস্থাই সিনেমাতে উঠে এসেছে।

সিনেমার শেষ অংশে কিছু সূত্র দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, তারা সফলভাবে পালাতে পেরেছে। কিন্তু, তারা আদৌ পেরেছিল কি-না তা জানা যায়নি, এখন পর্যন্ত রহস্যই রয়ে গেছে। ওয়ার্ডেন মনে করেছিলেন, তারা ডুবে মারা গেছে।

প্রতিক্রিয়াEdit

১৯৭৯ সালের ২৪শে জুন মুক্তি পাওয়ার ঐ সপ্তাহেই ছবিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫,৩০৬,৩৫৪ ডলার আয় করে। ৮১৫টি হলে তা দেখানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এর আয় ছিল ৪৩,০০০,০০০ মার্কিন ডলার।

সমালোচকদের কাছেও ছবিটি প্রশংসিত হয়েছে। রটেন টম্যাটোস-এ এর রেটিং ৯৩%, অর্থাৎ তাদের সংগৃহীত রিভিউগুলোর শতকরা ৯৩টিতেই এ ছবির প্রশংসা করা হয়েছে। রিভিউ অবশ্য বেশি না,মাত্র ১৪টি। উচ্ছসিত প্রশংসা না করলেও অধিকাংশই একে সাধারণের চেয়ে ভাল প্রিজন ব্রেক চলচ্চিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

অসংগতিEdit

ছবির শুরুতেই মাউন্ট সাট্রো টাওয়ার দেখানো হয় এবং পাশে লেখা দেখা যায়, ছবির সময়কাল ১৯৬০ সাল। অথচ এই টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালে এবং শেষ হয়েছে ১৯৭২ সালে। মরিস যখন কাঠের সাথে ধাতু দিয়ে তৈরী খণ্ডটি মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে নিয়ে যায়, তখন পাশে একটি ওসিলোস্কোপ দেখা যায়। এ ধরণের ওসিলোস্কোপ ১৯৭০-এর দশকে বাজারে এসেছে। মনিসকে যখন নৌকায় করে অ্যালকাট্র্যাজ জেলে নিয়ে আসা হচ্ছিল তখন নৌকার উপর একটি রাডার ঘুরতে দেখা যায়। এ ধরণের রাডারও ১৯৭০-এর দশকে নির্মীত হয়েছে।

Community content is available under CC-BY-SA unless otherwise noted.