চলচ্চিত্র Wiki
Advertisement

হলিউডের স্বর্ণযুগ শেষ হওয়ার পর আরেকটি যুগের সূচনা হয়েছে যাকে স্বর্ণযুগ না বলে রৌপ্যযুগ বলা যেতে পারে। সিডনি লুমেট এই রৌপ্যযুগেরই অন্যতম চলচ্চিত্রকার। মার্টিন স্করসেজি, ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা, উডি অ্যালেন, কোয়েন ভ্রাতৃদ্বয়, ডেভিড লিঞ্চসহ এ যুগের অন্যান্য পরিচালকদের সাথে সিডনি লুমেটের নামও উল্লেখ করতে হয়। লুমেটের সেরা দুটি সিনেমার একটি সম্ভবত নেটওয়ার্ক, আরেকটি হচ্ছে টুয়েলভ এংগ্রি মেন।

টেলিভিশন নিয়েই এই সিনেমা। সিনেমা বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার। টেলিভিশন এবং সিনেমা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নাকি পরিপূরক নাকি তারা পরষ্পরবিচ্ছিন্ন? প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়া যাবে না কারণ অধিকাংশ মানুষ তাদের জীবনের অধিকাংশ সময়ই টিভির সামনে পার করে। সিনেমায় সপ্তাহে একবার গেলেও টিভি ছাড়া সম্ভবত কারও এক দিনও চলে না। তাই প্রশ্নটি আরও সংশোধন করে বলা যেতে পারে, সমাজের উপর কার প্রভাব বেশি- টিভি না সিনেমা? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে আমি টেলিভিশনের পক্ষেই রায় দেব। সিনেমাকে সেদেশের মানুষ বিনোদন হিসেবেই নেয়, কিন্তু টেলিভিশন মার্কিনীদের ধ্যান-ধারণার রূপরেখা এঁকে দেয়, মগজ ধোলাই করে দেয়।

সিডনি লুমেট এই টেলিভিশন যুগেরই মানুষ। সিনেমার যখন রৌপ্যযুগ টেলিভিশনের জন্য সেটা ছিল স্বর্ণযুগ। মার্কিন টেলিভিশনের স্বর্ণযুগই প্রথম বুঝিয়ে দিয়েছিল মিডিয়া কিভাবে মানুষের চিন্তা চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু লুমেটের সিনেমা টেলিভিশনের প্রতিপক্ষ নয় বরং টেলিভিশনের প্রকৃত রূপ উন্মোচনকারী। এটা ছোট পর্দার বিপক্ষে কোন প্রোপাগান্ডা নয়, বরং শিল্পহীন ছোট পর্দায় মানুষের মানবতা আটকে যাওয়ার বাস্তব চিত্র। এতেই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর চলে আসে- লুমেট কি টিভি-বিদ্বেষী? উত্তর, না। অন্য সব মার্কিনীর মত লুমেটও বড় হয়েছেন টেলিভিশনের আশ্রয়ে। সিনেমাটি তার সেই বেড়ে ওঠারই সচিত্র প্রতিবেদন। বিষয়শ্রেণী:১৯৭৬ বিষয়শ্রেণী:সিডনি লুমেট বিষয়শ্রেণী:ইংরেজি বিষয়শ্রেণী:ব্ল্যাক কমেডি বিষয়শ্রেণী:স্যাটায়ার বিষয়শ্রেণী:ডিস্টোপিয়ান

Advertisement