চলচ্চিত্র Wiki
Advertisement

একবিংশ শতকের শুরুর দিকে, টাইরেল করপোরেশনের উন্নত মানের রোবট শিল্প নেক্সাস যুগে প্রবেশ করে। কার্যত নেক্সাস যুগের রোবটদের সাথে মানুষের তেমন কোন পার্থক্য নেই। এই রোবটদের বলা হয় রেপ্লিক্যান্ট। নেক্সাস ৬ রেপ্লিক্যান্টরা শক্তিমত্তার দিক দিয়ে অনেক ঊঁচুমানের, আর বুদ্ধিমত্তার দিক দিয়ে তাদের জিন প্রকৌশলী স্রষ্টাদের থেকে কোন অংশেই কম না।

রেপ্লিক্যান্টদেরকে ভিনগ্রহে মানুষের উপনিবেশগুলোতে দাস হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তাদের কাজ ছিলো অন্য গ্রহে মানুষের উপনিবেশ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করা।

নেক্সাস ৬ এর একটি দল ভিনগ্রহের কোন এক উপনিবেশে মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। এর পর পৃথিবীতে সব রেপ্লিক্যান্টদেরকে বেআইনী ঘোষণা করা হয়। তাদেরকে দেখামাত্র নিঃশেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়। “ব্লেড রানার ইউনিট” নামে পরিচিত পুলিশের বিশেষ বাহিনী এই আদেশ পালনের দায়িত্ব পায়।

নিঃশেষ করার এই কাজকে “একজিকিউশন” না বলে বলা হয় “রিটায়ারমেন্ট” (অবসর গ্রহন)।

“ব্লেড রানার” সিনেমা শুরুর আগেই এই তথ্যগুলো জানিয়ে দেয়া হয়, প্লেইন টেক্সট এর মাধ্যমে। এরপরই ২০১৯ সালের লস এঞ্জেলেসকে আমরা সরাসরি দেখতে পাই। কল-কারখানা আর বহুতল ভবনে আচ্ছাদিত শহরের দৃশ্যগুলো প্রথমেই মোহ ধরিয়ে দেয়, পর্দা থেকে এক সেকেন্ডের জন্যও চোখ সরিয়ে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সাথে সাথেই পরিচালক রিডলি স্কটের প্রথম সফলতাটা চোখে পড়ে। এটা হল ভিজুয়াল স্টাইলের সফলতা। অনেকেই বলেন, এরপর বিশ্বে যত কল্পবিজ্ঞান সিনেমা হয়েছে তার কোনটিই ব্লেড রানারের কাছে ঋণ স্বীকার না করে থাকতে পারবে না। পরবর্তী প্রায় সব সাইফাই সিনেমাই ব্লেড রানার দ্বারা কমবেশী প্রভাবিত হয়েছে। অবশ্য ব্লেড রানার নিজেও ফ্রিৎস লাং এর “মেট্রোপলিস” এর কাছে কিছুটা ঋণী। এই দুই সিনেমার কয়েকটা মিল উল্লেখযোগ্য:

- মেট্রোপলিসে দেখানো হয়েছিলো ধনকুবেররা সমাজের একটা উঁচু ও বিচ্ছিন্ন অংশে বাস করে। শ্রমিকদের বাস নিচুতলায়। ব্লেড রানারেও ধনীদের পৃথক আবাসনের বিষয়টা এসেছে।

- মেট্রোপলিসের “স্ট্রাটক্রোন” ভবনের সাথে ব্লেড রানারের “টাইরেল” ভবনের তুলনা করা যায়। অবশ্য টাইরেল ভবন ৭০০ তলা। ফ্রিৎস লাং ১৯২৭ সালে স্বভাবতই ৭০০ তলা ভবনের কথা ভাবতে পারেননি।

ব্লেড রানার “রিক ডেকার্ড” নামের এক ব্লেড রানারের রেপ্লিক্যান্ট শিকারের গল্প শোনায়। লিনিয়ার গল্প হিসেবে এটা খুবই উপভোগ্য, কিন্তু সিনেমা এই গল্পের থেকেও অনেক বেশী কিছু দিয়েছে। এই “বেশী কিছু”-ই আমার এ লেখার বিষয়বস্তু। সিনেমার অন্তর্নিহিত এই ভাবগুলো থিমকেন্দ্রিক। সিনেমার থিমের দিকে লক্ষ্য করলেই সেগুলো অনেকটা পরিষ্কার হয়ে আসে। এক বা গুটিকয়েক থিমের কথা বলে সাধারণীকরণ করার দুঃসাহস করি না। কিন্তু যে থিমগুলো আমাকে খুব বেশী ভাবিয়েছে সেগুলোই বলবো।

থিম[]

থিম বলতে “সিনেমাটা কি নিয়ে” সেটাই বোঝায়। অধিকাংশ সিনেমা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় থিম ধরতে না পারার কারণে। ব্লেড রানারের ক্ষেত্রে অবশ্য এমন কিছু হয়নি। এর উল্লেখযোগ্য থিমগুলো হচ্ছে:

প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উন্নত সভ্যতায় দাসত্ব[]

“I’ve seen things you people wouldn’t believe. Attack ships on fire off the shoulder of Orion. I watched C-beams glitter in the dark near the Tannhauser Gate. All those moments will be lost in time, like tears in rain… Time to die.”

মানুষের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য[]

“It’s too bad she won’t live; but then again, who does?”

জিন প্রকৌশলের মানবীয় দিক[]

“Commerce is our goal here at Tyrell. ‘More human than human’ is our motto.”

বাস্তবতার প্রকৃতি[]

“I don’t know why a replicant would collect photos.”

  • বাস্তবতা
  • মানবতা
  • রেপ্লিক্যান্টিজ্‌ম
  • সত্যের শাসন

বিষয়শ্রেণী:১৯৮২ বিষয়শ্রেণী:ডিস্টোপিয়ান বিষয়শ্রেণী:অস্তিত্ববাদী বিষয়শ্রেণী:সাইবারপাংক বিষয়শ্রেণী:ইংরেজি বিষয়শ্রেণী:রিডলি স্কট

Advertisement