FANDOM


Sisters detective

ফরাসি কানাডার কেন্দ্রভূমি কুইবেকে আমাদের গোয়েন্দা গোয়েন্দাগিরি করছেন

Sisters killing

ছুরি হাতে উদ্যত ডানিয়েল

সিস্টারস ব্রায়ান ডি পালমার প্রথম মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার। স্বাধীন সিনেমা অর্থাৎ কোন স্টুডিও থেকে মুক্তি পায়নি। খুব পরিচ্ছন্ন এবং সুনিয়ন্ত্রিত এই থ্রিলারটির মাধ্যমে ডি পালমা আমাদের বলে দিয়েছিলেন ভবিষ্যতের জন্য আমরা কি আশা করতে পারি। এরপর পালমা আরও অনেকগুলো মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার এবং হরর থ্রিলার করেছেন যার প্রমিজ ব্যক্ত হয়েছিল সিস্টারসে। পাশাপাশি এতে প্রথম বারের মত আমরা জানতে পেরেছি পালমা হিচকক দ্বারা প্রচণ্ড প্রভাবিত এবং খুব সচেতনভাবেই হিচককের থিম ও স্টাইল ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। কিছু সাধারণ উদাহরণ দেয়া যাক।

সিস্টারস শুরু হয় একেবারে টিপিক্যাল হিচকক সিনেমার মত। হিচককের সিনেমার শুরুতে আমরা সাধারণত নায়ক নায়িকা ও কিছু আনুষঙ্গিক চরিত্রের স্বাভাবিক জীবনের সাথে পরিচিত হই। হঠাৎ করেই এসে পরে সিনেমার হরর উপাদান, তারপর শুরু হয় থ্রিল। সিস্টারসে শুরুতে দেখা যায় ডানিয়েল, একটি ফরাসি-কানাডীয় মেয়ে যে মডেল ও অভিনেত্রী হতে চায়, এবং ফিলিপ, একটি পত্রিকার বিজ্ঞাপন ম্যানেজার, এর পরিচয় হয় একটি টেলিভিশন কুইজ শোতে। ফিলিপ প্রাইজ হিসেবে পায় আফ্রিকান রুমে দুইজনের জন্য ডিনার এবং এবং ড্যান্সের টিকেট, আর ডানিয়েল পায় স্টেইনলেস স্টিলের কাটলারি সেট। কে জানতো এই দুটি উপহারই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।

আফ্রিকান রুমে একটি লোক নিজেকে ডানিয়েলের স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে পায়। কিন্তু ডানিয়েল সে তার প্রাক্তন স্বামী এবং এখন কোনভাবেই তার পিছু ছাড়ছে না। ফিলিপ ওয়েটার ডেকে লোকটিকে বের করে দেয় এবং নিজেই ডানিয়েলকে বাড়ি নিয়ে যায়। তার বাড়ি স্ট্যাটেন আইল্যান্ড, যাকে নিউ ইয়র্কাররা নিউ ইয়র্ক বলে মনে করে না। ঐদিন তারা রাত কাটায় একসাথে। পরদিন ভোরে ডানিয়েল আগে ঘুম থেকে উঠে আরেকটি মেয়ের সাথে কথা বলে যদিও সে মেয়েকে আমরা দেখতে পারি না। জানতে পারি সে ডানিয়েলের সিয়ামিজ বোন ডোমিনিক। ফিলিপের সাথে রাত কাটানোতে ডোমিনিক ডানিয়েলের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট বোঝা যায়। ফিলিপেরও ঘুম ভেঙে গেলে সে জানতে চায় ডানিয়েল কার সাথে কথা বলছিল। উত্তরে সে বলে তাদের দুই বোনের আজ জন্মদিন হওয়ায় ডোমিনিক এসেছে। এদিকে ডানিয়েলের ওষুধ শেষ। ওষুধ কিনতে ফিলিপ বাইরে বেরোয়, এদিকে দেরি হওয়াতে ডানিয়েল পাগলের মত হয়ে যায়। ফেরার পথে ফিলিপ একটি জন্মদিনের কেক কিনে, উপরে লিখে রাখে happy birthday to Daniel and Dominique.

ঘরে ফিরে ফিলিপ দেখে ডানিয়েল বিছানায় চোখ বুজে শুয়ে আছে। সে কেকের উপর মোমবাতি জ্বালিয়ে ডানিয়েলের উপহার হিসেবে পাওয়া কাটলারি থেকে একটি ছুরি নিয়ে বিছানায় আসে। তাকে বলে মোমবাতি নিভিয়ে কেক কাটতে। এখান থেকেই শুরু হয় হরর উপাদান। ডানিয়েল আচ্ছন্নের মত ছুরিটি নিয়ে ফিলিপকে আঘাত করতে শুরু করে। মারা যাওয়ার ঠিক পূর্বে ফিলিপ একটি পর্দা ওঠানো জানালার কাঁচে হাত দিয়ে Help me লেখার চেষ্টা করে। পাশের বাড়ি থেকে এক তরুণী সাংবাদিক (গ্রেইস) তা দেখে পুলিশকে ফোন করে। গ্রেইস আরেকটি হিচককীয় চরিত্র। সে প্রচণ্ড সৎ এবং একটি খুনের প্রত্যক্ষদর্শী, কিন্তু একটি সমস্যার কারণে পুলিশ তাকে বিশ্বাস করছে না এবং খুনের অন্য কোন প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে না। ওদিকে আবার খুনী তার সম্পর্কে সবকিছু জানে। কেন্দ্রীয় হিরো চরিত্রের এই ভয়ংকর দুর্বলতা দর্শকদের মধ্যে কতোটা চাপের সৃষ্টি করতে পারে তা হিচককই প্রথম বুঝেছিলেন।

গ্রেইস পুলিশের দুর্নীতি ও সহিংসতা নিয়ে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের স্থানীয় পত্রিকায় একটি রিপোর্ট করার পর থেকে পুলিশ তাকে পছন্দ করে না। পুলিশ বাড়িতে আসার পর সে অনেক অনুরোধ করে তাদেরকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই ডানিয়েলের বাড়িতে যেতে বলে। তারা যায় ও শেষ পর্যন্ত। কিন্তু কোন চিহ্ন খুঁজে পায় না। কারণ ডানিয়েলের তথাকথিত প্রাক্তন স্বামী এমিল ইতিমধ্যে লাশটি সোফার ভেতর লুকিয়েছে এবং রক্ত ও খুনের সব উপকরণ একটি পলিথিনে ভরে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে। কিন্তু গ্রেইস হাল ছাড়ে না। সে দাবী করে, একটি শেতাঙ্গ মেয়ে তার কৃষ্ণাঙ্গ প্রেমিককে খুন করেছে এবং বর্ণবাদী পুলিশ ভিক্টিম কৃষ্ণাঙ্গ বিধায় কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। একটি পত্রিকা এই রিপোর্ট প্রকাশ করতেও রাজি হয়। পত্রিকা অফিসের অনুরোধে সে একজন প্রাইভেট গোয়েন্দা ভাড়া করে। এভাবেই আসলে সিনেমার পটভূমি তৈরি হয়, এরপর কেবল এগিয়ে যাওয়া। আর বলে দিলে ডিপালমার অনেক সারপ্রাইজ থেকে বঞ্চিত হবেন পাঠকেরা, তাই কাহিনী এ পর্যন্তই রাখলাম।

হিচককের রিয়ার উইন্ডো থেকেও অনুপ্রেরণা এসেছে। গ্রেইস বাইনোকুলার দিয়ে ডানিয়েলের এপার্টমেন্টের উপর চোখ রাখে যা মনে করিয়ে দেয়ে রিয়ার উইন্ডোর পঙ্গু সাংবাদিকের কথা। ডিপালমা অনুপ্রাণিত হয়েছেন সাইকো থেকেও। তবে সাইকো থেকে কি অনুপ্রেরণা এসেছে তা বলে দিলে সিনেমার চার্ম নষ্ট হয়ে যাবে। হিচককের এত অনুসরণের পরও সিস্টারস একটি মৌলিক কাজ। এতো পরিচ্ছন্ন এবং সরল মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার খুব কমই দেখা যায়। পাশাপাশি কিছু কমিডক উপাদানও আছে। বিশেষ করে গোয়েন্দাকে নিয়ে। ডিটেক্টিভ চরিত্রটি কমিক। গ্রেইসের উচ্চবাচ্য দেখে সে বলে,

Grace, this is a craft. I wouldn't try to teach you how to write magazine articles. Listen, I went to school to learn this, The Brooklyn Institute of Modern Investigation. Okay?

কার্যকরী হলেও গোয়েন্দার স্টাইল বেশ হাস্যকর।

অভিনয়ও চমৎকার। ডানিয়েল এবং গ্রেইস চরিত্রে সে সময়কার দুজন নতুন অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন বলে জানলাম। তবে তাদের অভিনয়ই খুবই বাস্তবানুগ। ডানিয়েলের ফরাসি-কানাডীয় ইংরেজি খুব কিউট যা হরর তৈরিতে আরও সহায়তা করে। আর একজন সৎ সাংবাদিক হিসেবে গ্রেইসের আগ্রাসী মনোভাব এবং কর্মকাণ্ড কমিক হলেও খুব বিশ্বাসযোগ্য।

Community content is available under CC-BY-SA unless otherwise noted.