FANDOM


কোন এককালে আমার অস্কারের প্রতি ভক্তি ছিল। “অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড”- নামটা শুনলেই কেমন জানি শিহরণ জাগতো। আমার এসব কথার গভীরতা অবশ্য অনেক কম হবে। কারণ আমি সিনেমা দেখি মাত্র ২ বছর ধরে। জীবনে প্রথম সিনেমা দেখেছি ভার্সিটিতে এসে, তাও সেকেন্ড ইয়ার এ। একটু ডজ মারলাম অবশ্য। ক্যাডেট কলেজে ক্লাস সেভেনে থাকতে দুইটা হিন্দি সিনেমা দেখেছিলাম। তখন প্রায় প্রতি সপ্তাহে কলেজে ভিসিআর না ভিসিডি কিসব শো থাকতো। সংখ্যাগরিষ্ঠের রুচি অনুযায়ী যথারীতি চলতি হিন্দি সিনেমা আনা হতো। আর পোলাপানের কি জোশ। বস্তাপঁচা সেই সব সিনেমা দেখে সে কি উল্লাস। কমার্শিয়াল হিন্দি সিনেমার স্টাইলটাই আমার ভাল লাগে না। যত্তোসব…

আমার ঘেন্নার লিস্টে এখন দ্বিতীয় জায়গা দখল করে নিয়েছে অস্কার। আগে কোন সিনেমা অস্কার পেয়েছে, কোনটা পায় নি এসব নিয়ে রীতিমত ইমোশনাল বিশ্লেষণ চলতো। মার্টিন স্করসেজি কে কেন আগে অস্কার দেয়া হলো না এই নিয়ে মন খারাপ করতাম। তার ডিপার্টেড এই কেন শেষ পর্যন্ত অষ্কার পেল এইসব ভেবে মানুষের হাপিত্যেশ উপভোগ করতাম। ডেভিড লিঞ্চ অস্কার পায় নি বলে দুঃখ করতাম। অথচ আজকে স্ট্যানলি কুবরিক ডিরেক্টর হিসেবে অস্কার পায় নি বলে অ্যাকাডেমি-কে জানাই কৃতজ্ঞতা। অস্কার দিয়ে কুবরিক এর মত এক ঈশ্বরকে মর্ত্যে নামিয়ে আনাটা কি ঠিক হতো?

গত বছর এইটা কি সিনেমাকে অস্কার দিল?

আমি জাস্ট আকাশ থেকে পড়ছি।

স্লামডগ মিলিওনার

একটা কুরুচীপূর্ণ সিনেমা। এডওয়ার্ড সাইদ এর পুরো যুগ পার করে এসে আজকাল মানুষ কিভাবে এসব ওরিয়েন্টালিস্ট গু হজম করে সেটা আমার মাথায় আসে না। স্লামডগ মিলিওনার এর থিম থেকে শুরু করে কথোপকথন এমনকি মেকিং এর স্টাইল আর সিনেমাটোগ্রাফিতেও ওরিয়েন্টালিজম আর থার্ড ওয়ার্ল্ড ভিউ এর ল্যাংটা বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।

বস্তির পোলাপানকে আমরা কবে কোথায় কুত্তা ডেকেছি। বস্তির কোন মানুষটা কবে নিজেদের কুত্তার মত মনে করেছে। নাম দিছে স্লামডগ! থিম কি?- বস্তি থেকে উঠে আসা এক ছেলে সম্পূর্ণ ফালতু একটা জীবনের তাড়নায় বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিভাবে দেখে? পুঁজিপতি সমাজের টেলিভিশন শো-তে ভাগ্যের বিশ্রী খেলায় জিতে। উহ, সিনেমার দৃশ্যগুলো মনে হলে আমার এখনও বমি চলে আসে।

তৃতীয় বিশ্বের একটা বস্তির ছেলে অমিতাভ বচ্চনের স্বাক্ষর নিতে নাকি গুয়ের মধ্যে লাফ দিছে। আর উন্নত বিশ্বের কর্পোরেট ক্লকওয়ার্করুপী মানুষগুলা তো তৃতীয় বিশ্বের মানুষের বানানো দুঃখ দুর্দশা দেখে নিজেদের গু হজম করে। ব্রিটেন আর অ্যামেরিকা তে নাকি এই সিনেমা হিট! এটাকে ঠিক দারিদ্র্যের ব্যবসাও বলা যায় না। তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্র্যকে উন্নত বিশ্বের মাথামোটা অর্থোডক্সরা কিভাবে দেখতে পছন্দ করে সেটাই ছিল এই সিনেমার উপজীব্য।

তাজমহল দেখতে গিয়ে মার্কিনীর সে কি ভাব।

ড্যানি বয়েল কে আমার আগে খারাপ লাগতো না। সানশাইন বা ট্রেইনস্পটিং দুটো সিনেমাই ভাল লেগেছিল। কিন্তু সে এইটা কি বানাইলো? একটা বিশাল পাইল অফ শিট।

ধীরে সুস্থে চিন্তা ভাবনা করেই আমি এই আবর্জনাটাকে ৫ এর মধ্যে ০ দিলাম।

এ আর রহমান না কি জানি নাম! হে ভারতের হয়ে উন্নত দেশে গেছে ভারতীয় ওরিয়েন্টালিস্ট হইতে। এই লোকের মাথায় কি সেন্স নাই নাকি! পৃথিবী বড়ই বিচিত্র। আজকাল পৃথিবীতে এমনও দেশ আছে যে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীগুলাও বোঝে না ওরিয়েন্টালিজম কাকে বলে, বোঝে না ঔপনিবেশিকতা কাকে বলে, বোঝে না শিল্পের মূল্যবোধ আর স্ট্যান্ডার্ড কাকে বলে।

অস্কার আদতে পুরোই বানিজ্যিক একটা অ্যাওয়ার্ড। আমেরিকার বিশ্রী পুঁজিবাদী সমাজের একটা প্রডাক্ট হচ্ছে অ্যাকাডেমি। অ্যাকাডেমির বিশাল স্বার্থ যেসব সিনেমাতে আছে কেবল সেগুলোই অস্কার পায়। বছরের সেরা শৈল্পিক সিনেমাটি তাদের চোখ এড়িয়ে যায়। অবশ্য তাদের দোষ দেই না। তারা তো বোঝেই না, শিল্প কাকে বলে, কিংবা চলচ্চিত্র কাকে বলে।

আজকাল আবার এমন দর্শকেরও অভাব নাই যারা সিনেমাকে ব্যবহার করে স্বল্পতম সময়ে, সবচেয়ে কম কষ্টে উপন্যাস পড়ার উপায় হিসেবে। শিল্প উপভোগ করতে আজকালকার মানুষের খুব কষ্ট হয়। এবং এই কষ্টের কারণ না জানার কোনই কারণ নেই।

Community content is available under CC-BY-SA unless otherwise noted.